মেশিন লার্ণিং কেন শিখবো? বাংলাদেশে এটার জব-স্কোপ কতটুকু?

(কোনো ভূমিকা নাই)। তিনটি কারনে মেশিন লার্ণিং শিখবেন-

  • টাকার জন্য (যেটা আমাদের মূল উদ্দেশ্য)
  • যুগের সাথে তাল মেলানোর জন্য
  • মানুষের জন্য (মানুষ মানুষের জন্য, তাই)

এখন অনেকের মনে হতে পারে- টাকার জন্য বুঝলাম, যুগের সাথে তাল মেলানোর জন্য আর মানুষের জন্য ব্যাপারটা বুঝলাম না।

ব্যাপারটা খুবই সহজ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে না চললে একসময় আপনি নোকিয়া ফোন হয়ে যাবেন, অথবা কোডাক ফটো ইন্ডাস্ট্রির মত হয়ে যাবেন। যাদের একজন কিনা একসময় ক্ল্যাসিক ফোনের বাজারে রাজত্ব করতো, আরেকজনের কোনো বিকল্পই ছিলোনা ফটো ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু তাদের দুজনেরই প্রোডাকশন প্রায় বন্ধের পথে (যদিও তাদের অন্যান্য সিস্টার কনসার্ণ বর্তমানে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে)।

“মানুষের জন্য” কেন করবো বা কিভাবে করবো, এটা বলতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখুন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ছোয়ায় আপনার চারপাশটা কতটা সহজ এবং উপলভ্য হয়েছে উঠেছে। অনেককিছু আবার আপনি উপভোগ করছেন, অথচ জানেনও না এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতি রয়েছে। এটার মাধ্যমেই এখন অন্ধদের দেখার ব্যবস্থা হচ্ছে, বধিরদের শোনার ব্যবস্থা হচ্ছে, রোগবালাই নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে, অজানা ভাষায়ও যোগাযোগ স্থাপন হচ্ছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যাচ্ছে। আরও কত কি! এসব কিন্তু ঘুরেফিরে মূলত মানুষের জন্যই করা হচ্ছে। যার বদৌলতে আপনার গুগল অ্যাসিসট্যান্টকে ডেকে, বলার সাথেসাথেই নিউজের হেডলাইন বা বর্তমানে ঢাকার আবহাওয়া সম্পর্কে বলে দিচ্ছে।

এবার আসি আসল জায়গায়। কিভাবে মেশিন লার্ণিং শিখে টাকাপয়সা কামাবো? আদৌ বাংলাদেশে মেশিন লার্ণিং শিখে কিছু করা যাবে কিনা.. বা বৌ ভাত দেয়া যাবে কিনা (এটা আসলে নিতান্তই মেয়েদের নামে একটা প্রচলিত অপযশ। তারা আসলে এত বেশি খায়না, যতটা আমরা তাদের খাওয়া নিয়ে চিন্তা করি -_- )।

টাকাপয়সা কেমন কামানো যায়, সেটা চিন্তা করলে প্রথমেই দেখতে হয় অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোর পরিসংখ্যান কি?

আপ-ওয়ার্কে ২০২০ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে হাইলি-পেইড জব লিস্টের ২ নাম্বারে অবস্থান করছে “ইমেজ অবজেক্ট রিকগনিশন”, যেটা কিনা মেশিন লার্নিং, ডীপ লার্ণিং-এর মধ্যমেই করা হয়। আর এক নাম্বারে থাকা “বিটকয়েন”, যেটার সাথে বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একত্রিত করে অনেক বড় বড় কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া হাইলি-পেইড জবগুলোর প্রায় সবগুলো সেক্টরেই রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপস্থিতি।

সূত্রঃ আপ-ওয়ার্ক

কেউ চাইলে, ঘরে বসে স্কিল ডেভেলপ করে, বিশ্বের যেকোনো জায়গার কাজ সে নিজে নিজেই করতে পারবে, এবং টাকাপয়সা অন্যান্য জবের তুলনায় বেশিই পাবে।

এসবের কথা নাহয় বাদই দিলাম। আমাদের দেশের কি অবস্থা? এখানে মেশিন লার্ণিং এক্সপার্টদের কোনো দাম আছে?

আছে ভাই। দামি জিনিসের দাম সবজায়গাতেই আছে। সত্য কথা বলতে- ঠিক ৩/৪ বছর আগেও আমাদের দেশে খুব বেশি স্কোপ ছিলোনা এই ফিল্ডে এক্সপার্টদের একামোডেট করার। কিন্তু এখন খুজতে গেলে অনেক কোম্পানি/প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে যারা মেশিন লার্ণিং, ডীপ লার্ণিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের হাতে অনেক দেশী-বিদেশী কাজ রয়েছে। তাদের নাম বলে শেষ করা যাবেনা। এমনকি বলতে গেলে বর্তমানে তারা ডিজার্ভিং/স্কিলফুল লোকই খুজে পাচ্ছেনা তাদের সার্ভিস দেয়ার জন্য।

আমার জানামতে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাজের সাথে জড়িত (যাদের কাছে আপনার সিভি ড্রপ করতে পারবেন)। তাদের মধ্যে অন্যতম-

১। Apurba Technologies Ltd
২। Augmedix
৩। BJIT
৪। BrainStation
৫। Cramstack
৬। Data Soft
৭। Desh AI
৮। eGeneration
৯। Gaze Technology
১০। Genex Digital
১১। Ice9
১২। Monon AI
১৩। PrideSys IT
১৪। Sigmind
১৫। Zantrik

এছাড়া আরও অনেক অনেক নতুন এবং পুরাতন কোম্পানি রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়তই এই ফিল্ডের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় দিক হলো এদের কেউই দেশের প্রচলিত বেতন-ভাতা অফার করেনা। আপনি এদের যেকোনো একটা কম্পানিতে ইনটার্নশিপ করলেও প্রাপ্ত টাকা দিয়ে অনায়াসে নিজেকে চালাতে পারবেন। আমার পরিচিত যারাই মোটামুটি শিখে ইন্ডাস্ট্রিতে জয়েন করেছে, তাদের স্টার্টিংই ছিলো একজন ওয়েব ডেভেলপারের ৪/৫ বার ইনক্রিমেন্ট হওয়ার পরের বেতন (আমি এখানে ওয়েব ডেভেলপারদের ছোট করছিনা, স্কিলফুল ওয়েব ডেভেলপারেরও অনেক দাম আছে, কিন্তু সেটা আপেক্ষিকভাবে সময় সাপেক্ষ)।

এছাড়াও যারা ইন্ডাস্ট্রির বাইরে একাডেমিয়া বা রিসার্চ এরিয়ায় কাজ করতে চান, তাদের ব্যাপারে অত্যাধিক সুসংবাদ! তাদের আসলে এই ফিল্ডে স্কোপের অভাব নাই । কারন- “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো নতুন ইলেক্ট্রিসিটি”।

অন্যদিকে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুল্যুশনের (4IR) কথা চিন্তা করতে গেলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পেছলে ফেলে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অন্যতম উপাত্ত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, আইওটি, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং রোবোটিকস।

আর হ্যা, যদিও “একদিন তো মরেই যাবেন”, কিন্তু বেচে থাকতে পারেন আপনার কাজের মাধ্যমে। আমাদের দেশ, আমাদের পরিবেশ নিয়ে অনেক সমস্যা এবং অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে দেখেই এখানে কিছু করার প্রচুর স্কোপ রয়েছে। বাংলা, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক সমস্যা, যেগুলো আপনি সলভ করতে পারেন এই মেশিন লার্ণিং কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে।

পড়ুনঃ রিসার্চ এবং মেশিন লার্ণিংঃ শুরু করার সঠিক ও সহজতম উপায়