লিনাক্স টার্মিনাল নিনজা- পর্ব ৩ [ফাইল ইডিট অপারেশন]

আগের একটা লেখাতে ফাইল এবং ডিরেক্টরিতে একসেস করা নিয়ে লিখেছিলাম, কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে ফাইল একসেস অপারেশন লেখাটি পড়ে নিতে পারেন।

এই লেখাটিতে আমি ফাইল এবং ফোল্ডারের ইডিট, যেমন- তৈরি করা, ডিলিট করা, একসেস পারমিশন পরিবর্তন করা ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। একটা জিনিস খেয়াল রাখবো- আমরা যে অপারেশনই করি না কেন, সেটা কোন ডিরেক্টোরি বা ফাইলে হচ্ছে তা জেনে কাজ করতে হবে।

 

কোন ডিরেক্টরিতে নতুন একটি ফাইল তৈরি করাঃ

  • টেক্সট ফাইল তৈরি করতে হলে আমাদের টার্মিনালে vi fileName লিখে এন্টার চাপতে হবে। তাহলে বর্তমান ডিরেক্টরিতে একটি ঐ নামে টেক্সট ফাইল তৈরি হয়ে যাবে।
[email protected]:~$ vi newDoc

এখানে vi newDoc লিখে আমি এন্টার চেপেছি। newDoc হল আমার দেয়া ফাইলের নাম।

ভয় পাওয়ার কিছু নাই! এটা দেখতে কমপ্লেক্স একটা টেক্সট ইডিটর Vim, যেটা কিনা লিনাক্সের সমচেয়ে শক্তিশালী টেক্সট ইডিটরও বলা হয়। এখানেই চাইলেই লেখা শুরু করতে পারবো না।

  • লেখা শুরু করতে হলে প্রথমে i লিখে এরপর টেক্সট ফাইলটিতে যা লিখতে চাই তা লিখতে হবে। (i না লিখলে লেখা শুরু করা যাবে না)
  • এবার লেখা শেষ হলে ESC বাটন চেপে ইডিট মুড থেকে বের হয়ে আসা যাবে।
  • একেবারে টেক্সট ইডিটর থেকেই বের হয়ে আসতে SHIFT+Z+Z পরপর প্রেস করতে হবে।

এরপর ডিরেক্টরিতে এসেই দেখা যাবে newDoc নামে একটি ফাইল তৈরি হয়েছে।

 

কোন ডিরেক্টরিতে নতুন একটি ডিরেক্টরি তৈরি করাঃ

আমরা চাইলে কোন একটি ডিরেক্টরিতে নতুন আরও অনেক ডিরেক্টরি বা ফোল্ডার তৈরি করতে পারবো। সেজন্য লিখতে হবে mkdir directoryName এবং এন্টার চাপতে হবে।

[email protected]:~$ mkdir dir

এখানে আমি  dir1 নামে একটা নতুন ডিরেক্টরি তৈরি করার জন্য কমান্ড দিয়েছি, তাহলে আমাদের বর্তমান ডিরেক্টরিতে নতুন আরেকটি ডিরেক্টরি তৈরি হয়ে গেল।

ফাইলের বিভিন্ন অপারেশনসমূহঃ

  • ফাইলের এলিমেন্টগুলো দেখা

কোন ফাইলের মধ্যে কি লেখা আছে তা টার্মিনালেই দেখা যায়। দেখতে হলে লিখতে হবে cat fileName

[email protected]:~$ cat newDoc

এখানে তাহলে পুর্বে ক্রিয়েট করা newDoc ফাইলটির ভেতরের লেখাগুলো দেখা যাবে। আরও এডভান্স ভাবে দেখতে চাইলে cat -b fileName ট্রাই করে দেখতে পারেন।

  • ফাইলের মধ্যে কতগুলো কি আছে সেটা দেখা

ফাইলের মধ্যে কতগুলো লাইন, ওয়ার্ড, কত বাইট আছে তা দেখতে চাইলে লিখবো wc fileName

[email protected]:~$ wc newDoc

এখান থেকে যেটা দেখাবে তার-

  • প্রথমেরটা হল Total Line.
  • পরেরটা Total Word.
  • এর পরেরটা Total Size in Byte.
  • এবং শেষেরটা ফাইলটির নাম নির্দেশ করে।

আমি এখানে newDoc ফাইলটির মধ্যেকার ইনফরমেশন দেখেছি।

 

  • একটি ফাইলের ডেটা অন্য ফাইলে কপি করা

একটি ফাইল থেকে অন্য ফাইলে ডেটা ট্রান্সফার করতে হলে লিখবো cp newDoc1 newDoc2 । মনে করি newDoc1  থেকে newDoc2  তে ডেটা ট্রান্সফার করবো।

[email protected]:~$ cp newDoc1 newDoc2

তাহলে আমাদের newDoc1  তে থাকা ডেটাগুলো, যেগুলো newDoc2  তে নাই… সব কপি হয়ে newDoc2  তে পেস্ট হয়ে যাবে।

 

  • ফাইলের নাম রিনেম বা পরিবর্তন করা

কোন ফাইলের নাম পরিবর্তন করতে হলে লিখবো mv newDoc1 newDoc2 । মনে করি newDoc1 ফাইলটির নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিব newDoc2

[email protected]:~$ mv newDoc1 newDoc2

তাহলে পুর্বের নামটি পরিবর্তন হয়ে নতুন নাম রিপ্লেস হয়ে যাবে।

 

  • ফাইল ডিলিট করা

কোন ফাইল ডিলিট করতে হলে টাইপ করবো rm fileName । এখানে আমরা newDoc2  ফাইলটি ডিলিট করবো।

[email protected]:~$ rm newDoc2

এই কমান্ড দিলে ডিরেক্টরিতে থাকা newDoc2  ফাইলটি ডিলিট হয়ে যাবে।

  • ডিরেক্টরি ডিলিট করা

কোন ডিরেক্টরি ডিলিট করতে হলে টাইপ করবো rm -r  fileName । এখানে আমরা dir2 ডিরেক্টরিটি ডিলিট করবো।

[email protected]:~$ rm -r dir2

এই কমান্ড দিলে ডিরেক্টরিতে থাকা dir2 ডিরেক্টরিটি ডিলিট হয়ে যাবে। আমরা rm -rf  fileName কমান্ডও ইউজ করতে পারি, তাহলে প্রতিটি ফাইলের জন্য পারমিশন প্রোমট না চেয়েই ডিলিট করে দিবে।

  • একসেস পারমিশন পরিবর্তন করা

আগেই বলেছি লিনাক্সে সুপার ইউজার চাইলে যেকোন ফাইল বা ফোল্ডারের একসেস পারমিশন পরিবর্তন করে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রথমে আমরা এটা করতে হলে প্রথমে আমরা বিভিন্ন পারমিশনের ভেলু সম্পর্কে জেনে নেই-

  • 0→ No Permission
  • 1→ Execute
  • 2→ Write
  • 3→ Execute+Write [1+2]
  • 4→ Read+Write
  • 5→ Read+Execute [4+1]
  • 6→ Read+Write+Execute [4+2]
  • 7→ All Permission

আমরা এখন একসেস পরিবর্তন করতে chmod value dirName কমান্ড ইউজ করবো। মনে করি  dir2 এর সবগুলো একসেস নাই, এটাকে আমরা সবগুলো ইউজার থেকে সব ধরনের একসেস দিব।

[email protected]:~$ chmod 777 dir2

এটা করতে হলে অবশ্যই সুপার ইউজার হতে হবে। উপরের কমান্ডটা দিলেই dir2 ডিরেক্টরি সবগুলো ইউজার থেকে সবগুলো একসেস পেয়ে যাবে।

ফাইল ইডিট অপারেশন এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে টার্মিনালের আরও কিছু অপারেশন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, টার্মিনালে সফটওয়্যার ইন্সটলেশন এবং মজার কিছু কমান্ড লেখাটি দেখে নিতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *