লিনাক্স টার্মিনাল নিনজা- পর্ব ১ [বেসিক টার্মিনাল পরিচিতি]

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
আজকে লিখছি লিনাক্স ইউজারদের ক্রাশ আর বিগিনারদের ত্রাশ লিনাক্স শেল বা টার্মিনাল নিয়ে। অধিকাংশ বিগিনার ঝরে পড়ে এই টার্মিনাল সম্পর্কে পজিটিভ ধারণাসমূহ না থাকার কারনে, আবার সকল ইউজারই টিকে থাকে একমাত্র টার্মিনালের প্রতি অকাতর ভালবাসা কাটিয়ে উঠতে না পারার কারনে! লিনাক্স অথরিটি তাদের সিস্টেমের সকল সুপার পাওয়ার ঢেলে দিয়েছে এই টার্মিনালের মধ্যে। সকল সাধারন কাজকর্ম ছাড়াও লিনাক্স টার্মিনালের যে আধ্যাত্মিকতা তা বুঝা যায় নেটওয়ার্ক এডমিন্সট্রেশন বা এরকম উচু মানের কাজের সময়।

নতুন ইউজারদের কাছে ব্যাপারটা খটকা লাগলেও এটাই সত্য যে ইউজারকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া এবং দ্রুত কর্ম সম্পাদন করাই হল লিনাক্স টার্মিনালের মাহত্ব।

সাধারন কাজকর্ম যেমন- সফটওয়্যার ইন্সটলেশন, আপ্লিকেশন চালু করা, ফোল্ডার অপারেশন, সিস্টেম চালু করা, বন্ধ করা এরকম যাবতীয় সকল কাজ টার্মিনলের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই করতে পারি, যার জন্য আমাদের খুব বেশি কাঠখড়ি পুড়ানো লাগবে না।

আমরা যারা উবুন্তু চালাই অর্থাৎ UNIX অপারেটিং সিস্টেম, তাদের ডিফল্ট একটা টার্মিনাল দেয়াই থাকে যেটা bash নামে পরিচিত। এছাড়াও ইউজারদের সুবিধার জন্য আরও অনেক ধরনের টার্মিনাল রয়েছে, তাদের কাজ ঘুরেফিরে একই।

টার্মিলাল ওপেন করাঃ

যেকোন ডিরেক্টরিতে আমরা চাইলে যেকোন অবস্থায় টার্মিলান ওপেন করে সেখানে কাজ করতে পারি। যেকোন যায়গা থেকে রুট ডিরেক্টরিতে টার্মিনাল ওপেন করতে আমরা CTRL+ALT+T ইউজ করবো। কী-বোর্ড থেকে জাস্ট CTRL+ALT+T বাটন তিনটি পরপর চাপলেই নিচের মতো টার্মিলাল ওপেন হয়ে যাবে…

কঠিন লাগছে? ব্যাখ্যা করছি… টার্মিনালের ফরম্যাটটি হল এরকমঃ [email protected]:Working_directoryUserPrivilege এখানে-

  • Username: টার্মিনাল ব্যবহারকারীর ইউজারনেম। এখানে- ‘sanzid‘।
  • Hostname: হোস্টনেম হচ্ছে কম্পিউটারকে দেয়া একটি নাম। এখানে- ‘HP-240-G4
  • Working_directory: সহজ ভাষায় এটা হচ্ছে এখন এই শেলে আপনি কম্পিউটারের কোন ফোল্ডার বা ডিরেক্টরিতে আছেন। এখানে ‘~‘। (‘~‘ দ্বারা হোম ডিরেক্টরি বুঝায়)।
  • UserPrivilege: লিনাক্সে দুই ধরনের ইউজার হয়। সাধারণ ব্যবহারকারী যার জন্য ‘$‘ চিহ্ন এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী রুট ইউজার বা সুপারইউজার বা এডমিনিস্ট্রেটর যার জন্য ‘#‘ চিহ্ন।

এরপর টার্মিনাল বন্ধ করতে জাস্ট exit লিখে এন্টার চাপুন।

টার্মিনাল সম্পর্কে টুকটাক জ্ঞানঃ

১। আগেই বলে রাখি, আপনি যেকোন জায়গা থেকে কোড নিয়ে এসে কন্ট্রোল সি, কন্ট্রোল ভি মারবেন! এটা এত সহজে টার্মিনালে হবে না, এর একসেস একটু রেসটিক্টেড। সেজন্য টার্মিনালে কিছু পেস্ট করতে হলে CTRL+SHIFT+V চাপবেন, একইভাবে টার্মিনাল থেকে কিছু কপি করতে হলেও সিলেক্ট করে CTRL+SHIFT+C পরপর চেপে কাজগুলো করতে হবে।

২। টার্মিনালের চেহারা ইচ্ছামত পরিবর্তন করা যায়। যেমন ধরুন আমারটাই উবুন্তুর ডিফল্ট টার্মিনালের মত না, একটু রংচং পরিবর্তন করা জাস্ট।

৩। টার্মিনালে পূর্বে কোন কমান্ড লিখে থাকলে সেটা খুব সহজেই কী-বোর্ডের আপ বাটন ↑ চেপে হিস্ট্রি থেকে নিয়ে আসা যায়। তাহলে আর বোকার মত কমান্ডগুলো বারবার লিখতে হবে না।

৪। টার্মিনালে কোন কমান্ড লিখতে গিয়ে ভুল হয়েছে বুঝতে পারলে ব্যাকস্পেস দিয়ে একটা একটা করে মুছার কোন দরকার নাই। জাস্ট CTRL+U চাপুন, দেখবেন পুরো লাইনটা টার্মিনাল থেকে মুছে গেছে।

৫। এছাড়া লেফট ←, রাইট → কী তো বামে, ডানে যাওয়ার জন্য কাজ করবেই…

আজকে টার্মিনালের পরিচয় এই পর্যন্তই! পরের লিখা লিনাক্স টার্মিনাল নিনজা- পর্ব ২ [ফাইল একসেস অপারেশন] এবং লিনাক্স টার্মিনাল নিনজা- পর্ব ৪ [টার্মিনালে সফটওয়্যার ইন্সটলেশন এবং মজার কিছু কমান্ড] দেখে নিতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে…