র‍্যানসমওয়্যার ভাইরাস, কিছু পরামর্শ এবং উবুন্তু

আইটি বিশ্বে বর্তমান সময়ের একটি হুমকির নাম Ransomware ভাইরাস…
যা গত কয়েকদিনে সারা বিশ্বে প্রায় ৭৫ হাজারের মত কম্পিউটারে দাপটের সাথে এট্যাক করেছে সঙ্গে হাতিয়ে নিয়েছে কম্পিউটারে থাকা ডেটা এবং বিনিময় অর্থ। এর ফলসরূপ বাংলাদেশেও আমার পরিচিত/ অপরিচিত অনেকেই ভিক্টিম হয়েছেন এই ভাইরাসের ছোবলে!

সংক্ষেপে বলতে গেলে Ransomware মূলত রাশিয়ায় বিস্তার হওয়া একটি বিধ্বংসী ভাইরাস, যেটাকে কম্পিউটার ডেটা কিডন্যাপার বললে ভুল হবে না!!
এই ভাইরাসের মূল স্ট্রাটেজি হল কোন একটি পিসিতে ঢুকে কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই সেই কম্পিউটারের সকল প্রয়োজনীয় ডেটা এনক্রিপ্ট করে ফেলা..
এরপর শুরু হবে হ্যাকারদের খেলা! আপনার পিসি স্ক্রিনে ডেটা গুলো ডিক্রিপ্ট করার জন্য অর্থের দাবি করে একটা নোটিশ দিবে এবং সেটা মোটামুটি ৩০০ ডলার থেকে শুরু!!
আরেকটা কথা মনে রাখবেন… নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম দিয়েও আপনি পার পাবেন না!! আপনার ডেটাগুলো এনক্রিপ্টেড অবস্থাই বিদ্যমান থাকবে…
কিভাবে মুক্তি পাবেন তাহলে এই Ransomware থেকে???

 

আগেই বলে রাখি…

Ransomware এর জন্য তেমন কার্যকরী এন্টিসাপোর্ট দেয়ার মত কিছু তৈরি হয়নি এখন পর্যন্ত।
প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর। এই কথা সবসময় মনে রাখবেন।
১. অপরিচিত মেইল খুলবেন না। স্প্যাম মেইল দেখলেই চেনা যায়, সোজা ডিলিট!
২. ফ্রী আইফোন লেখা দেখে চোখ মুখ বন্ধ করে ঝাপিয়ে পড়বেন না সেই লিংকে! দেয়ার ইজ নাথিং কল্ড ফ্রী লাঞ্চ 😛
৩. একই কথা সব সোস্যাল সাইটের জন্য। “মেয়েটি এ কি করলেন সবার সামনে (দেখুন ভিডিওসহ)” লেখা, আর একটি ছবি দেখে ক্লিক দিয়ে দিবেন না। দিলেই শেষ হয়ে যেতে পারেন!
৪. ডাউনলোড করা ফাইল আগে ভালো করে চেক করবেন এর পর চালাবেন। প্রয়োজনীয় ফাইলগুলোর মধ্যেই থাকতে পারে ভাইরাস ঢুকানো!
৫. দুই নম্বর বা ক্রাক করা এন্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন না। প্রায় ১০ ভাগ কেইসে এই জিনিষ দেখা গেছে।
৬. ডার্ক ওয়েব বা তা সংক্রান্ত সফটওয়্যার নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন না। ওটা আপনার জন্য কোন কাজের জিনিষ না। আরও বড় বিপদে পরবেন। (যদি আপনি নিজেই হ্যাকার হয়ে থাকেন তাহলে আলাদা কথা)
৭. যেহেতু প্রতিদিনই ম্যালওয়্যার মেকাররা তাদের প্রোগ্রাম আপডেট করে তাই আপনিও আপনার সিস্টেম আর এ্যান্টিভাইরাস আপডেটেড রাখুন!
সবশেষে বলবো…
আপনি যদি একজন হবু সিএসই ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ভবিষ্যতে বুক উচু করে নিজেকে পরিচয় দিতে চান, তাহলে আজই চুরি করা উইন্ডোজ ফেলে দিয়ে ইন্সটল করে ফেলুন লিনাক্সের যেকোন একটি ডিস্টো, যেমন- উবুন্তু! 🙂
চুরি করা প্রোডাক্ট, আর ক্রাক করতে গিয়ে ভাইরাসের শিকার হওয়া আর কত দিন??
বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আপনি ছোট থেকে যদি লিনাক্সের সাথে পরিচিত হতেন তাহলে আপনি নিজেই বলতেন জানালা থেকে লিনাক্স হাজার গুন ভাল একটি অপারেটিং সিস্টেম!!!
সব আসলে অভ্যাসের ব্যাপার

 

ডেভেলপাররা যেমন এখনো এমন কোন টুলস খুজে পায়নি যা দ্বারা  Ransomware শতভাগ প্রোটেক্ট করা যায়, আমিও একইভাবে এমন কোন টুলস খুজে পাইনি যা লিনাক্সে উইন্ডোজের অলটারনেটিভ হিসেবে নাই!! 🙂
এখানেও সবকিছু করা যায় এবং উইন্ডোজের সবকিছুর বিকল্প লিনাক্সে আছে।
যাই হোক…

 

উবুন্তু কেন জানালার থেকে হাজার গুন বেশি সিকিউর, আমাদের জন্য উবুন্তুর প্রয়োজনীয়তা, আমি কেন উবুন্তু ব্যবহার করে মজা পাই এবং আপনি কেন ব্যবহার করবেন, বিস্তারিত বলবো পরবর্তী কোন এক পোস্টে।
থাকুন মুক্ত সফটওয়্যারের(Open Source) সাথে..
মুক্ত থাকুন Ransomware থেকে…
ধন্যবাদ সবাইকে… 🙂